সুন্দরবনের কয়রা এলাকায় কোস্ট গার্ডের পৃথক দুই অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, ডাকাতদের হাতে জিম্মি থাকা চার জেলে মুক্ত এবং হরিণের মাংসসহ ৪ শিকারিকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়—সুন্দরবনের কয়রা নদীর নাগজোড়া খালসংলগ্ন এলাকায় দুর্ধর্ষ ডাকাত দুলাভাই বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত রবিবার (৭ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে কয়রা কোস্ট গার্ড স্টেশন একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ওই এলাকা থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি তাজা কার্তুজ, একটি ফাঁকা কার্তুজ এবং ডাকাতদের হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত জেলারা হলেন কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের মোঃ হান্নান সরদার,মহিনুর ইসলাম ও দাকোপ উপজেলার নলিয়ন গ্রামের নিশি কান্ত ও ইয়াকুব্বর সানা। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার জেলেদের পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ছাড়া, সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাত ২টার দিকে আরেকটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা নদীর ময়দাপেশা খাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে ৭২ কেজি হরিণের মাংস, দুটি হরিণের মাথা, ৩০০ মিটার ফাঁদসহ চার হরিণ শিকারিকে আটক করা হয়।তারা হলেন কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের জামাল শেখ, আইয়ুব আলী শেখ, সোলেমান শেখ ও সবুর গাজী।
জব্দকৃত হরিণের মাংস, মাথা ও ফাঁদসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, “সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা এবং বন্যপ্রাণী নিধন ও পাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।”
এ জাতীয় আরো খবর..